সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬ - ১৫:৩৪
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অহংকার মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে

বাংলাদেশের ‘ইনকিলাব’ পত্রিকার সম্পাদক সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেছেন, একটি মুসলিম সমাজ যখন আধিপত্যবাদী শক্তির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়, তখন ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অহংকার চূর্ণ করে দিয়েছে এবং প্রমাণ করেছে যে মুসলমানদেরই ইসলামী বিশ্বের নিরাপত্তা ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর মেহদি মোল্লায়ি আরানি ঢাকায় ‘ইনকিলাব’ পত্রিকার কার্যালয়ে পত্রিকাটির সম্পাদক বাহাউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

সাক্ষাতে মেহদি মোল্লায়ি আরানি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ‘ইনকিলাব’ পত্রিকার অবস্থান উল্লেখ করে বলেন, মুসলিম দেশগুলোর সংবাদ নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ‘ইনকিলাব’ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম।

তিনি বলেন, পত্রিকাটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের খবরও ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। এ কারণে ইরানের জনগণের পক্ষ থেকে তিনি পত্রিকাটির সম্পাদক ও সব সাংবাদিককে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আরও বলেন, বিশ্ব ইতিহাসে এমন ঘটনা খুবই বিরল-যেখানে যুদ্ধের শুরুতেই সামরিক কমান্ডারসহ শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা, বহু বিজ্ঞানী ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি শহীদ হন। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই যুদ্ধে নেতৃত্বের কোনো ঘাটতি দেখা দেয়নি।

মোল্লায়ি আরানি বলেন, এই যুদ্ধে দুটি পরাশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তারা পরাজিত হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। প্রায় চার দশক ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আল-উজমা খামেনেয়ীর যোগ্য ও শক্তিশালী নেতৃত্বের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। তিনি এমনভাবে ইরানের জনগণকে গড়ে তুলেছিলেন, যাতে দেশের কোনো অংশেই নেতৃত্বের সংকট সৃষ্টি না হয়।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিপ্লবের এই মহান নেতা বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি বিশ্বের দীর্ঘ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন এবং ইরানের জনগণকে এমনভাবে প্রস্তুত করেছিলেন, যাতে কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা শক্তভাবে নিজেদের পথ এগিয়ে নিতে পারে। এ কারণেই ইরানের জনগণ এই যুদ্ধে বড় বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর এই বিজয়কে শুধু ইরানের জনগণের বিজয় নয়, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে ইরানের জনগণ এই যুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ইরান যদি এই যুদ্ধে পরাজিত হতো, তাহলে পরবর্তীতে অন্যান্য মুসলিম দেশও একই ধরনের হামলার শিকার হতে পারত।

তিনি ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে সংহতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, এখন মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়। মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিশ্বের কোনো শয়তানি শক্তিই মুসলিম উম্মাহর ক্ষতি করতে সক্ষম হবে না।

সাক্ষাতের পর ‘ইনকিলাব’ পত্রিকার সম্পাদক বাহাউদ্দিন পত্রিকাটির কার্যালয় পরিদর্শনের জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলরকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে পত্রিকাটির সংবাদ পরিবেশনের প্রশংসা করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

‘ইনকিলাব’ পত্রিকার কার্যক্রমের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই পত্রিকা বাংলাদেশ ও সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকা পালন করে আসছে। সম্পাদকীয় নীতির ক্ষেত্রে তারা কখনো ইসলাম থেকে সরে আসেনি।

তিনি আরও বলেন, এই গণমাধ্যম শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সবসময় ইসলামী ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।

সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বাহাউদ্দিন বলেন, এই সময়ে ইরান চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আধিপত্য ও অহংকার চূর্ণ করে দিয়েছে। ইরান প্রমাণ করেছে যে মুসলমানদেরই ইসলামী বিশ্বের নিরাপত্তা ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইরানের ভূমিকা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যুদ্ধের পর ইসলামী বিশ্বের নেতৃত্ব ও ঐক্য সুসংহত করতে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশা করেন। ইসলামী ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ইরানের যেকোনো ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে ‘ইনকিলাব’ পত্রিকা সবসময় সমর্থন করবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমভিত্তিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ, সহযোগিতা জোরদার এবং অনলাইন ও গণমাধ্যমে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ সম্পর্কে বিষয়বস্তু তৈরি ও প্রকাশে সহযোগিতার অংশ হিসেবে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha